কুষ্টিয়া খবর

লঞ্চডুবিতে কুষ্টিয়ার ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ২ শিশু  ॥  এলাকায় শোকের মাতম

লঞ্চডুবিতে কুষ্টিয়ার ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ২ শিশু ॥ এলাকায় শোকের মাতম

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
পদ্মার পাটুরিয়ায় লঞ্চডুবির ঘটনায় যে মরদেহ উদ্ধার হয়েছে তার মধ্যে কুষ্টিয়ারই ১৭ জন। এর মধ্যে ৩ পরিবারের ৯জন সদস্য  রয়েছে। তাদের পরিচয়ও মিলেছে। এদের বাড়ি কুমারখালী, খোকসা, মিরপুর ও সদর উপজেলায়। নিখোঁজ রয়েছে দুই শিশু। নিহত পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
নিহতদের মধ্যে বিয়ের পিড়েতে বসার আশায় কনে দেখে, কেউবা মানত শোধ করে, কেউবা সন্তানকে সাথে নিয়ে আর কেউবা ব্যবসায়িক কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু সে ফেরা আর হয়ে উঠেনি। বাড়ি ফিরেছে লাশ হয়ে। লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটেছে পৌনে বারটার দিকে। আর মৃত্যুর সংবাদ পৌছেছে দুপুর নাগাদ। এরপর থেকে স্বজনদের অপেক্ষা। মধ্যরাতে একে একে আসতে শুরু করে মরদেহ। স্বজনদের আহাজারি আর আর্তনাদে সে কথাই বারে বারে উঠে এসেছে।
কুষ্টিয়া ছেঁউড়িয়ার মোল্লাপাড়া গ্রামের মৃত সাবুর বড় ভাই লাবু জানান, সাবু গিয়েছিলেন বিয়ের পাত্রী পছন্দ করতে। পাত্রী পছন্দ হওয়ার পর বিয়ের দিনক্ষন ঠিক করে বাড়ি ফেরার পথে লঞ্চডুবিতে সাবু (৩০), তার মা মর্জিনা খাতুন (৫৬) এবং তার ভাই এর মেয়ে লাবনী (১৪)’র মৃত্যু হয়। আনন্দের বদলে এখন শোকের ছায় সাবুর বাড়িতে।
কুমারখালী উপজেলার সাঁওতা গ্রামের ফারুক জানান, তার স্ত্রী রেবেকা খাতুন (২৯) তার তিন বছরের ছেলে রাইসান ও মেয়ে বিথি খাতুনকে (১৪) নিয়ে গিয়েছিলেন ঢাকায় এক কবিরাজের বাড়িতে মানত শোধ করতে। মানত শোধ করে বাড়ি ফেরা হয়নি তাদের। একই পরিবারের তিন জনের মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ পরিবারের স্বজনরা। এছাড়া একই এলাকার মোস্তফা বিশ্বাস (৬০) মৃত্যু বরণ করেছেন।
লঞ্চডুবির সময় লঞ্চে থাকা কুমারখালীর উপজেলার খয়ের চারা গ্রামের মিলি খাতুন জানান, ঢাকা থেকে স্বামী সন্তান নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। লঞ্চডুবিতে নিজে বেচে গেলেও চোখের সামনে মরতে দেখেছেন স্বামী হাফেজ ইউনুস আলী (৩০) ও তার মেয়ে আড়াই বছরের ফাতেমাকে। স্বামীর লাশ খুজে পেলেও মেয়েকে পাওয়া যানি। এখনও সে নিখোঁজ রয়েছে। স্বামী ও সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় সে।
পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া শহরের ভাঁটাপাড়া এলাকার নাসির (২৯) তার দুই মেয়েকে বাড়িতে রাখার জন্য ঢাকা থেকে রওয়ানা হয়েছিলেন। লঞ্চডুবিতে মৃত্যুর পর তার লাশ উদ্ধার হলেও নিখোজ তার সাথে থাকা তার বড় মেয়ে নাইমা (৬)। ছোট মেয়ে নোহাকে (৪) জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
ব্যবসায়িক কাজ শেষে বাড়ি ফেরার কথা ছিল কুমারখালী শহরের কুন্ডুপাড়া এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী মধুসুধন শাহা (৬৫)। কিন্তু লঞ্চডুবিতে বাড়ি ফিরেছে লাশ হয়ে। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে নির্বাক পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, খোকসা উপজেলার জয়ন্তিহাজরা ইউনিয়নের মহিষবাথান গ্রামের একই পরিবারের ৩ জন, ইসমাইল হোসেন এর মেয়ে লতা (২২), আড়াই বছরের ছেলে পুলক হোসাইন এবং ছোটভাই এনামূল (১৪) মৃত্যুবরন করেছে। তাদের লাশ মধ্য রাতে খোকসায় পৌছে। এছাড়া কুষ্টিয়া সদর উপজেলার নতুন কমলাপুর এলাকার সান্টু মিয়ার ছেলে প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বাপ্পী (৩২), শহরের ডাঃ অসীম কুমার পালের কন্য্ ানবনীতা কুমার পাল (৩০), এবং মিরপুর উপজেলার আমলা সদরপুর স্কুলপাড়া’র এলাকার আনসার আলী’র ছেলে আসাদুল হক (২৭) এবং আমলা বাজারের  আযুব আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম (৩০) মৃত্যুবরন করেছে।
কুষ্টিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, জেলার খোকসা উপজেলায় ৩জন, কুমারখালী উপজেলায় ৯জন, সদর উপজেলায় ৩জন এবং মিরপুর উপজেলায় ২ জন এর মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার সর্বশেষ সংবাদ পাওয়া গেছে। স্বজনদের ভাষ্য অনুয়াযী নিখোঁজ রয়েছে ২ জন।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন জানান, নিহতদের লাশ প্রশাসন তদারকির মাধ্যমে পৌচ্ছে দিচ্ছে পরিবারের কাছে। সোমবার তাদের নিজ নিজ গ্রামে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

siteadmin

ফেব্রুয়ারী 24th, 2015

No Comments

Comments are closed.