জেলার সংবাদ

আটকে রয়েছে হবিগঞ্জ-বানিয়াচং আঞ্চলিক সড়কের সংস্কার কাজ

আটকে রয়েছে হবিগঞ্জ-বানিয়াচং আঞ্চলিক সড়কের সংস্কার কাজ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ॥

হবিগঞ্জ-বানিয়াচং আঞ্চলিক মহাসড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়েও ২০ দলের টানা অবরোধ-হরতালের কারণে ঝুলে গেছে। সড়কের পিচ ও ইটের খোয়া ওঠে গিয়ে সৃষ্ট খানাখন্দক মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। নিত্যদিনই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। সংস্কার কাজ আটকে থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগে পোহাচ্ছেন বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলার ১০ লাখ মানুষ। স্থানীয়রা জানান, বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ এই দুই উপজেলার মানুষ হবিগঞ্জ জেলা শহরের সঙ্গে চলাচলের একমাত্র সড়ক। এছাড়া সুমানগঞ্জ জেলার দিরাই ও শাল্লা উপজেলার অনেক গ্রামবাসী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। সওজ হবিগঞ্জ সূত্র জানায়, ১৮ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার কাজে ৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বরাদ্ধ এসেছে। জানা যায়, মৌলভীবাজারের মহিবুর রহমান ঠিকাদার সড়কটির কাজ পায়। গত বছর ২৫ নভেম্বর কার্যাদেশ দেয়া হয়। এ বছরের এপ্রিলে কাজ শেষ হওয়ার কথা। উলেখ্য, ঠিকাদার কাজ শুরু না করায় পরিবহণ শ্রমিকরা গত বছর ১৪ ডিসেম্বর সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। ইউএনও মোহাম্মদ শামছুল ইসলাম ও সরকার দলীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চৌধুরী সাত দিনের মধ্যে কাজ শুরুর আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয় শ্রমিকরা। ঠিকাদার ১৫ দিনের মাথায় লোক দেখানো সংস্কার কাজ শুরু করে। চার-পাঁচ দিন খুঁড়াখুঁড়ি করার পর কাজ বন্ধ করে দেয় এই সংস্কার কাজ। সরেজমিন দেখা গেছে, পুরো সড়কজুড়ে খানাখন্দক ও গর্তে ভরপুর। খন্ড খন্ড ২০টি স্থান খুঁড়াখুঁড়ি করেছে ঠিকাদার। গাড়ি চলছে ঝুঁকি নিয়ে। এ বিষয়ে চালক গিয়াস জানান, ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তায় চলতে গিয়ে গাড়িতে ঠেলা-ধাক্কা নিত্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিএনজি  চালক জোবায়ের জানান, ৩০ মিনিটের ওই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে ১ঘন্টা। ওই রুটের নিয়মিত যাত্রী বৃন্দাবন কলেজ ছাত্র সুমন জানান, বিধ্বস্ত রাস্তার কারণে বাড়তি ভাড়া গুণতে হয়। এ ব্যাপারে ঠিকাদার মহিবুর রহমানের বক্তব্য জানতে রোববার রাত ৯টায় তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সওজ’র হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম জানান, টানা অবরোধ ও হরতালের কারণে কাজের গুড়ায় মালামাল আনতে পারছেন না ঠিকাদার। সাময়িক অসুবিধায় কাজ বন্ধ রয়েছে। এরপরও কাজ শুরুর তাগিদ দিলে এক সপ্তাহর মধ্যে কাজ শুরু হবে বলে ঠিকাদার তাকে জানান। এমপি আব্দুুল মজিদ খান ছিলাপাঞ্জা এলাকায় আইন শৃংখলার বিশেষ একটি সভায় বলেছেন, সংস্কার কাজে সাড়ে ৭ কোটি টাকা বরাদ্ধ এনেছি। ঠিকাদারকে ধরে এনে সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিদের্শ দিয়েছি। একই সঙ্গে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এর সঙ্গে কথা বলেছি। সংশ্লিষ্টরা আশ্বস্ত করেছেন শিগগিরই কাজ শুরু হবে।

siteadmin

ফেব্রুয়ারী 25th, 2015

No Comments

Comments are closed.